কাগজের নৌকো -শতাব্দী
এক
ঝাঁক ইচ্ছে নৌকো ভাসিয়েছিল তাতাই। কাগজের নৌকো। তাতাই-এর মতো আমরা সকলেই কোনো না কোনো সময় এই ইচ্ছে-তরী ভাসিয়েছিলাম। মারাত্মক বৃষ্টিতে যখন রাস্তাগুলি জলে থৈ থৈ করত, ঠিক তখনই আমাদের ইচ্ছেরা গায়ে পাখা লাগাত। ডানা মেলে উড়তে না পারুক, মনের বৈঠায় বয়ে যেত। কখনো বা তা আটকে যেত পাশের বাড়ির গেটে , কখনোও বা তার পাশের বাড়ি .... আবার জলের তোড়ে বেশ কিছুটা দূরেও চলে যেত সহজেই। তবে ইচ্ছের ভরাডুবিও হয়েছে কখনো কখনো।
স্বপ্নে ভরা নৌকাগুলি
কাগজ দিয়ে গড়া,
কত শত স্বপ্ন পুরে
নৌকা ভাসিয়ে দেওয়া।
ভাসছে নৌকা ভিজছে কাগজ
রঙীন চেহারায়
বাধাহীন স্বপ্নগুলি বয়ে চলে যায়।
এইভাবে
বইতে বইতে একসময় উল্টে যায় নৌকাগুলি। একবার ভাসানোর পর জল-পায়ে গিয়ে নৌকাগুলো সোজা করে দেওয়া যায় না মোটেই। তাই তখন চলে আবার নতুন নৌকো বানানোর পালা।
নৌকো এমন এক জলযান যা বহু প্রাচীন কাল থেকেই যাতায়াত , যোগাযোগ , বাণিজ্যের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এর রয়েছে হরেক নাম : ডিঙি নৌকো , পাল তোলা নৌকো , ত্রিকোণ নৌকো , বজরা , ময়ূরপঙ্খী নাও , পানসি , সাম্পান , ভেলা আরো কত শত।
তবে কাগজের নৌকা এদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ইচ্ছে জলে ইচ্ছে নৌকো। তাই শুধু তাতাই-ই নয়, ওর সাথে ওর বাবা-মা , দাদু-দিদা সবাই নৌকা ভাসাতে শুরু করে দেয় ; তাদের স্বপ্নগুলি ভরে।
এরকম 'অরিগ্যামি' বানানো মূলত জাপান থেকে শুরু হয়। কাগজ ভাঁজ করে নানা জিনিসের প্রতিমূর্তি বানানোর নাম অরিগ্যামি। অরি -র অর্থ ভাঁজ ও ক্যামি (পরে পরিবর্তিত হয়ে গ্যামি হয়েছে) -র অর্থ কাগজ। জাপান ছাড়াও চীন,জার্মানী,ইতালি ও স্পেনেও এটি একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প।জাপানের আকিরা ইয়োশিজাওয়াকে আধুনিক অরিগামির জনক বলা হয়। হাতি, ঘোড়া, পাখি, ফুল, পাতা, গাড়ি, সাপ, ব্যাঙ, পাখা, বক, বায়ুকল আরো কত কী , যা যা বানাতে মন চায় সবই সম্ভব এই অরিগ্যামি দিয়ে।
কাগজ দিয়ে এরকম নানা জিনিস বানানোর ব্যাপারটা নিয়েই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী খুলে ফেলেছে ‘বুয়েট অরিগ্যামি ক্লাব’।
তাই এই কাগজের নৌকা নামধারী নৌকাগুলোর মতো নয়। এ হল এক স্বপ্ন-নৌকা , কাগজ দিয়ে গড়া কল্পনার প্রতিমূর্তি।

Comments
Post a Comment