Posts

Showing posts from April, 2018

শহর- বৈশাখী পাল

Image
শহর তোমার রূপের ঝলক্ পুড়িয়েছিলো ভীষণ ভোরে । আসমানি রং খুঁজতে গিয়ে একলা হলাম সেই অকালে ।। তোমার গানের ভৈরবী সুর পায়ের ধুলো মেঘলা পুকুর ।। শহর তুমি গল্প একা , কৈ মাছের ওই ভীড়ের ভিতর । শহর তোমায় খুঁজতে গিয়ে মনজোছোনা চাপানউতোর ।। শহর তুমি মানিকতলা , বাজারমুখী আঁশটে বাসা । শহর তুমি নষ্ট শশা , গলির কোনে কলার খোসা ।। শহর তুমি কলেজপাড়া , বই এর দোকান আসুন দাদা । শহর তুমি ব্যবসায়ী মন , দর কষাকষি গোলকধাঁধা ।। শহর তুমি ইলশেগুড়ি , প্রেমযাপনের চারটে আঙুল্ ।। শহর তুমি রঙীন ফানুস , পায়ে হাঁটা পথ চলতে থাকুক । শহর তুমি কামাই ক্লাসের গল্পজ্বরের   বাবুঘাটে , সেল্ফি মোডে ফুচকাগাড়ি আজও কেমন দাঁড়িয়ে থাকে ! শহর তুমি বিষন্নতা , একলা চড়াই প্রেম দিলে না । শহর তুমি তাকিয়ে দ্যাখো , তোমার কোলেই নির্যাতিতা । শহর তুমি প্রতিবাদের ঝড় তোলা সেই মোমবাতি । ফেসবুকেতেই কাঁপন তোলো , লাইক্ করার মাতলামি ! শহর তুমি বাড়ছো যতো , বিজ্ঞাপনেরই বাড়ছে স্থূপ । কংক্রীটেতে ঘুড়ি বেঁধে যায় , ভেলকি দেখায় মরণকূপ ।। শহর তুমি একটা ঋতু , হলদে আলোর ব্যস্ততা । মাঘ ফাগুনের ধূসর ফুলে রোদ পোড়া এক...

আমি ও লজ্জাবতী সংবাদ -শতাব্দী

Image
কী খবর , কেমন আছো না বলে সরাসরি কাজের কথায় চলে যাওয়াই আধুনিক রীতি । মানুষ বড় ব্যস্ত । তাই মুহূর্তও সময়ের অপচয় করে না । যদিও দীর্ঘদিন পর যখন লজ্জাবতীর সাথে পথ চলতে দেখা হল , মনের মধ্যে গুজগুজ করা প্রশ্নগুলি ভাষা পেল কিছুটা এভাবে -- কীসের এত লজ্জা তোমার থাকো তো পরে পথের পাশে অবহেলার অবগাহনে গুটিয়ে যাও কেন এক পরশে ! লজ্জাবতী শোনাই তবে প্রাণের কথা বন্ধু হয়ে শোনো যদি , মনের মতো সঙ্গী পেলে আমিও রাজার ঘরে বিরাজি । লজ্জা কি আর সাধে আসে মা যদি গো এমন সাজায় তার ওপরে কথা বলা সে কি আর আমায় মানায় ! আমি :   অনেক গুণ নাকি তোমার কত রোগের ঔষধি । এমন কোনো ওষুধ তোমার জানা আছে নাকি ! লজ্জা কাটিয়ে তুমি কেবল শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকো , সবাই কে বলবে হেসে দেখো তো দেখি ছুঁয়ে এখন । লজ্জাবতী : জানো তো সবই লীলার কথা বলব আমি কী , তুমিও বোঝো আমিও বুঝি হাসেন অন্তরযামী ।

খিস্তি সুখের উল্লাসে- নীলাদ্রি

Image
একদম ছোটবেলা থেকেই ছড়ার কোলে মানুষ হয়েছি আমরা । সেইসব সহজ , প্রাণোচ্ছল এবং প্রায়শই মজার মজার ছড়াগুলো ছিল আমাদের বাইবেল , কোরান , বেদ সবকিছু । যখন নিজে পড়তে শিখিনি , তখনই মা , জেঠিমাদের মুখ থেকে শুনে শুনে মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল ' ঘুম পাড়ানি মাসি পিসি ' বা ' আয় আয় চাঁদমামা ' ধরণের ছড়াগুলো । এরপর একে একে ' তাই তাই তাই / মামাবাড়ি যাই ' বা ' বৃষ্টি পড়ে টাপুরটুপুর '- এর মতো ছড়া এক নিঃশ্বাসে বলতে শিখি । তাছাড়া বাড়িতে কোনো আত্মীয় এলে মা বাবা দাদু দিদাদের গর্বিত করার জন্য তারস্বরে চেঁচিয়ে ' আতা গাছে তোতা পাখি ' থেকে শুরু করে ' ব্যা ব্যা ব্ল্যাকশিপ ' কিংবা ' খোকা গেল মাছ ধরতে ' পারফর্ম করতে হতো ! ছড়া আমাদের লোকসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ । স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবিভক্ত বাংলার প্রত্যন্ত সব এলাকা থেকে অজস্র ছড়া সংগ্রহ করেছিলেন । ছোটবেলায় পড়া ছড়াগুলো নিয়ে তিনি শিশুর মতোই উচ্ছ্বসিত ছিলেন । আর তাঁর নিজের লেখা প্রতিটি ছড়াই যে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ছড়াগুলোর অন্যতম , তা বলাই বাহুল্য । একদম ছোটবেলায় পড়া...